পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছিলেন ২৫ বছর বয়সী বিরেন্দ্র শাক্য। নতুন জীবনের শুরুতেই স্ত্রীর হাত ধরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল মৃত্যুর ফাঁদ। ট্রাকচাপায় নবদম্পতিসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার ১১ এপ্রিল একটি মন্দিরে বিরেন্দ্র শাক্যের সঙ্গে রাজেশ্বরী শাক্যের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পরদিন রোববার ১২ এপ্রিল নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এ সময় শিবপুরি জেলার একটি সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পোলট্রি খাদ্যবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ওই সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশার ওপর সরাসরি পড়ে ট্রাকটি। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহতরা হলেন বিরেন্দ্র শাক্য, তার স্ত্রী রাজেশ্বরী শাক্য, মা অনভেশ শাক্য ৫০ এবং ভাবি রাজো শাক্য ২২। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তার বোন ভুরিয়া শাক্য ১৯ এবং অটোরিকশার চালক।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দ্রুতগতির ট্রাকটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে উল্টে যায় এবং সরাসরি অটোরিকশার ওপর আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় হতাহতদের উদ্ধারের সুযোগও মেলেনি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে একটি বুলডোজার এনে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ট্রাক সরিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, এই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ভুরিয়া শাক্যের বাগদান হওয়ার কথা ছিল একই দিনে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও এখন সেই আনন্দের আয়োজন বদলে গেছে শোকের আয়োজনে। পরিবারের চারজনের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।